রাজধানীর কদমতলী এলাকায় শনিবার রাতে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। আসলাম খান নামের ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ীকে গুলি করার পরপরই স্থানীয় জনতা হামলাকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শনির আখড়া রয়েল হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ‘লাকী রাইস ক্রোকারিজ’ নামের দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ আসলাম খান বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আসলাম খানের বন্ধু মনোয়ার হোসেন জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি হঠাৎ দোকানে প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি আসলাম খানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এতে আসলাম খানের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে এবং কপালের ডান পাশে গুলি লাগে। ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং হামলাকারীকে ঘিরে ফেলে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই আসলাম খানকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনির আখড়া এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ ক্যাম্পের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কদমতলী থানাকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসলাম খান পেশায় একজন ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী। তিনি শরীয়তপুরের ভেদেরগঞ্জ থানার শাহজাহানপুর গ্রামের আলী আকবর খানের ছেলে। বর্তমানে তিনি সপরিবারে শনির আখড়া পলাশপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কদমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হামলাকারীর পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শনির আখড়া এলাকায় এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ব্যবসায়ী আসলাম খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল কি না, তা নিয়ে তার স্বজনরা উদ্বিগ্ন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আসলাম খানের শরীরে থাকা গুলির ক্ষতগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার সময় দোকানের ভেতরে আর কেউ ছিল কি না বা হামলাকারী একা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া হামলাকারীর কাছে থাকা অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আসলাম খানের চিকিৎসার সার্বিক তদারকি করা হচ্ছে।
