রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন কাওরান বাজার এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ৫৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাওরান বাজারের পেছনের রেললাইনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা আব্দুল করিম জানান, দুর্ঘটনার সময় ওই ব্যক্তি রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন।
সেই মুহূর্তে ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আঘাত পান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানাকে অবহিত করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহতের নাম বা পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
কাওরান বাজার এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল এবং এর দুই পাশেই প্রতিদিন নিয়মিত বাজার বসে। রেললাইনের ওপর দিয়ে মানুষের চলাচল এবং বাজারের ব্যস্ততার কারণে এই এলাকায় প্রায়ই ঝুঁকি তৈরি হয়। রেললাইন দিয়ে হাঁটাচলা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও রেললাইন দিয়ে পারাপার বা হাঁটাচলা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এই দুর্ঘটনার ফলে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিআইডি ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য আঙুলের ছাপসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হবে। যদি কোনো স্বজন বা পরিচিত ব্যক্তি নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেন, তবে তাদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রেলপথে দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রেললাইনের আশপাশে অবৈধ স্থাপনা ও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তেজগাঁও থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটি কোন দিক থেকে আসছিল এবং ওই ব্যক্তি কেন রেললাইন দিয়ে হাঁটছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে। বর্তমানে নিহতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
