রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় নিজ বাসায় জেসমিন আক্তার নামের এক নারীকে গুলি করার ঘটনায় তার স্বামী মো. আব্দুল মান্নান ওরফে আব্দুল হান্নান, ছেলে মো. রাকিব এবং ছেলের বন্ধু মো. হাতিম মিয়াকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ঘটনার পর ব্যবহৃত পিস্তলটি লুকিয়ে রাখার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।
রোববার বিকেলে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় দারুস সালাম থানার মসজিদ গলি এলাকার নিজ বাসায় জেসমিন আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। র্যাব জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মাদকাসক্ত অবস্থায় আব্দুল মান্নান বাসায় ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি তার স্ত্রীকে গুলি করেন, যা তার ডান বাহুতে আঘাত করে। ঘটনার ছায়া তদন্তের মাধ্যমে র্যাব জানতে পারে যে, আব্দুল মান্নান নিজেই এই গুলির ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটকের সময় তার কাছ থেকে ২১৫টি ইয়াবা জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ব্যবহৃত পিস্তলটি তার ছেলে রাকিবের কাছে লুকিয়ে রাখার জন্য দিয়েছিলেন। র্যাব ও দারুস সালাম থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাকিবকে আটক করা হয়।
রাকিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বন্ধু হাতিম মিয়ার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ওয়্যারড্রোবের ড্রয়ার থেকে পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করা হয়। এই অস্ত্রটিই জেসমিন আক্তারকে গুলি করার ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল বলে র্যাব নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আব্দুল মান্নান ওই এলাকার একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।
ঘটনার পর আব্দুল মান্নানের ছেলে রাকিব দাবি করেছিলেন যে, জানালা দিয়ে বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা গুলি করেছে। তবে তদন্তে র্যাব নিশ্চিত হয়েছে যে, এটি একটি বানানো গল্প এবং ঘটনাটি ঘরের ভেতরেই ঘটেছে। র্যাব-৪-এর অধিনায়ক আরও জানান, আহত জেসমিন আক্তার মাদকের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি একজন সাধারণ গৃহবধূ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তবে তার স্বামী আব্দুল মান্নান নিয়মিত মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের সংসারে প্রায়ই কলহ লেগেই থাকতো। ছেলে রাকিব মাদকাসক্ত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা জানান, তাকে দেখে মাদকাসক্ত মনে হয়নি, তবে অপরাধ সংঘটনের পর অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে সহায়তা করার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল মান্নান, রাকিব ও হাতিম মিয়াকে জব্দ করা অস্ত্র ও গুলিসহ আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে র্যাব তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
