রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতুতে সাত দিন পর পর্যটকদের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল থেকে পর্যটকরা পুনরায় এই সেতুতে প্রবেশ করতে পারছেন। গত ২৯ আগস্ট থেকে নিরাপত্তার খাতিরে সেতুটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর ফলে গত ২৯ আগস্ট দুপুরে ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই দিন দুপুর থেকেই সেতুতে প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শুক্রবার বিকেলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমতে শুরু করায় সেতুটির অধিকাংশ অংশ পুনরায় ভেসে ওঠে। পানি নেমে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ সেতুটি পরিষ্কার করে এবং প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করে। এরপরই পর্যটকদের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, কাপ্তাই হ্রদের পানি কিছুটা কমে আসায় সেতুর পাটাতন থেকে পানি নেমে গেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং শনিবার থেকে পর্যটকরা পুনরায় সেতুতে প্রবেশ করতে পারছেন।
সেতুটি খুলে দেওয়ার পর থেকে রাঙ্গামাটি ভ্রমণে আসা পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কাপ্তাই হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এই বিশেষ স্থাপত্যের আকর্ষণে অনেক পর্যটক এখানে ভিড় করছেন।
উল্লেখ্য যে, পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টির কারণে হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়া এই অঞ্চলে একটি নিয়মিত ঘটনা। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেতুটি যখন ডুবে গিয়েছিল, তখন পর্যটকদের ঝুঁকি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে সেতুর পাটাতন এবং কাঠামোগত অবস্থা পর্যটকদের চলাচলের জন্য নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে। মেরামত কাজের পর সেতুটি এখন আগের মতোই ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠেছে। পর্যটকরা এখন নিরাপদে কাপ্তাই হ্রদের দৃশ্য উপভোগ করতে পারছেন।
রাঙ্গামাটির এই ঝুলন্ত সেতু পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান। কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত এই সেতুটি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে একটি। দীর্ঘ সাত দিন পর এটি পুনরায় খুলে দেওয়ায় স্থানীয় পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা এবং পর্যটকরা উভয়েই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
