যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। যশোর ব্যাটালিয়ন এবং বেনাপোল আইসিপি চেকপোস্ট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৩৮ পিস ভারতীয় শাড়ি, ৮২ গজ জিন্সের থান কাপড়, ৬৯ প্যাকেট ফুসকা, সাড়ে ৪ কেজি কিসমিস, ১৬৫টি চকলেট এবং ৪২৭টি কসমেটিক্স সামগ্রী। বিজিবি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয় এবং চোরাকারবারিদের তৎপরতা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।
জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান এই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য রোধে বিজিবির বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পাচারচক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করা এবং তাদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিজিবি নিয়মিতভাবে সীমান্তে টহল ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে আসছে। অধিনায়ক আরও উল্লেখ করেন যে, যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কোনো পণ্য বা মাদক যেন প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবির এই ধরনের আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি জানান। জব্দকৃত মালামালগুলো বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগুলো সরকারি গুদামে জমা দেওয়া হবে। এই অভিযানে কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তবে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রমের ফলে চোরাচালানকারীদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যশোর সীমান্তে বিজিবির এই অভিযানকে স্থানীয় পর্যায়ে চোরাচালান বিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ পণ্য চোরাচালান বন্ধে বিজিবি তাদের কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজিবি সদস্যদের পেশাদারিত্ব এবং কঠোর নজরদারির কারণে সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে নিয়মিত সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে।
আগামী দিনগুলোতেও সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এই আভিযানিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে বিজিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
