যশোরের অভয়নগর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের মজুমদার ব্রান অয়েল মিলের সামনে যশোর-খুলনা মহাসড়কে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আমজেদ গাজী (৫৪) এবং আছিরন বিবি (৬৫)। আমজেদ গাজী উপজেলার মশরহাটী গ্রামের হাকিম গাজীর ছেলে এবং আছিরন বিবি লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মালেক সরদারের স্ত্রী।
সম্পর্কে তারা আপন ফুফু ও ভাতিজা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে আমজেদ গাজী ও আছিরন বিবি গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মজুমদার ব্রান অয়েল মিলের সামনে পৌঁছালে যশোরগামী গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে বাসের সামনের ইঞ্জিনের অংশের নিচে আটকে যায় এবং আরোহীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও তার সহকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় আহত দুজনকে দ্রুত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজনিন নিগার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আমজেদ গাজীর মৃত্যু হয়েছিল।
গুরুতর আহত অবস্থায় আছিরন বিবিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। চিকিৎসকের ভাষ্যমতে, মাথায় গুরুতর আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই মূলত তাদের মৃত্যু হয়েছে। নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (এসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে বাসের চালক ও তার সহকারীরা পলাতক রয়েছেন। তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বর্তমানে যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করে থাকে। তবে এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই দুর্ঘটনাটি যশোর-খুলনা মহাসড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন যেন মহাসড়কে দ্রুতগতির বাসগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয় এবং চালকদের বেপরোয়া মনোভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
