মেহেরপুরের গাংনীতে জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের কার্যালয়ের পাশে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশের প্রস্তুতিকালে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাংনীতে জাভেদ মাসুদ মিল্টনের কার্যালয়ের পাশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হচ্ছিলেন।
সেই সময় হঠাৎ বিকট শব্দে পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে সাদা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে নেতা-কর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, সড়কের পাশে থাকা একটি দেবদারু গাছের ওপর একটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং অপরটি মাটিতে বিস্ফোরিত হয়।
খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইলেকট্রিক সার্কিটসহ বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে বিকেল ৪টার দিকে যখন নেতা-কর্মীরা বাঁশবাড়িয়া বাজারের পাশে প্রধান সড়কে শোভাযাত্রার জন্য পুনরায় জড়ো হচ্ছিলেন, তখন পুলিশ পার্শ্ববর্তী আনসার-ভিডিপি ক্লাবের কাছ থেকে আরও একটি অবিস্ফোরিত বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ বানচাল করার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে এবং এগুলো বিশ্লেষণের পরই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে। পুলিশ বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য তৎপর রয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ঘটনার সময় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে জনমনে এই বিস্ফোরণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তবে তারা সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠাবে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করছে কি না তা তদন্তের স্বার্থে পরে জানানো হবে।
বর্তমানে এলাকাটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
