মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কনা খাতুন নামে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু কনা খাতুন ছাতিয়ান গ্রামের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা আল মামুনের মেয়ে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে কনা তার সমবয়সি বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিল।
পুকুরে নামার পর এক পর্যায়ে শিশুটি গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা পুকুরের পানিতে নেমে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর দ্রুত তাকে বামন্দীর একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শিশুটির বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়রা ভিড় করেন। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, শিশুটির পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার বিষয়টি পুলিশ অবগত হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে জলাশয়ের সংখ্যা বেশি, সেখানে শিশুদের অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের পুকুর বা জলাশয়ের কাছাকাছি যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা খেলার ছলে বা গোসল করতে গিয়ে গভীর পানির গভীরতা বুঝতে না পেরে বিপদে পড়ে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বাড়ির পাশের পুকুর বা ডোবার চারপাশে বেড়া দেওয়া বা শিশুদের একা জলাশয়ের কাছে যেতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন সমাজকর্মীরা। এছাড়া শিশুদের সাঁতার শেখানোর বিষয়টিও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মেহেরপুরের এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গাংনী থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে, যা অনেক সময় সচেতনতার অভাবে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কনা অত্যন্ত চঞ্চল ও মেধাবী শিশু ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন সাধারণ মানুষকে তাদের শিশুদের ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বা বৃষ্টির দিনে জলাশয়ের পানি বেড়ে গেলে শিশুদের ওপর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
এই ঘটনাটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক মৃত্যু আর না ঘটে।
