রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়া এক কিশোরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মোহাম্মদ রাব্বি নামে ১৯ বছর বয়সী এক ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে পল্লবী থানাধীন মিরপুর বাংলা স্কুল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ওই সময় মেট্রোরেল পিলার নম্বর-২২২-এর কাছে পল্লবী ট্রাফিক জোনের একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে রাস্তার পাশে একটি অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওই পুলিশ সদস্যের সন্দেহ হয়। তিনি অটোরিকশাটির দিকে এগিয়ে গেলে ভেতর থেকে অর্ক নামে এক কিশোর চিৎকার করে সাহায্য প্রার্থনা করেন।
কিশোরের চিৎকার শুনে পুলিশ সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে অটোরিকশাটির কাছে পৌঁছান এবং মোহাম্মদ রাব্বিকে আটক করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাব্বির সঙ্গে আরও তিনজন ছিনতাইকারী অটোরিকশায় ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া কিশোর অর্ক বর্তমানে নিরাপদ আছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আটক মোহাম্মদ রাব্বিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পল্লবী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য তিন ছিনতাইকারীকে খুঁজে বের করতে এবং তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মিরপুর এলাকায় ছিনতাই রোধে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের এই তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ঘটনার সময় অটোরিকশাটি কেন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল এবং ছিনতাইকারীরা কীভাবে ওই কিশোরকে কবলে নিয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পলাতক অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মিরপুর বাংলা স্কুল এলাকাটি জনবহুল হওয়ায় সেখানে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সদস্যের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের বিপদ থেকে ওই কিশোর রক্ষা পেয়েছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হবে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো মন্তব্য না করলেও নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। আটক রাব্বির বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের সুবিধার্থে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছে।
তবে খুব দ্রুতই বাকি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে পুলিশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। উদ্ধার হওয়া কিশোরকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কোনো সন্দেহজনক অটোরিকশা বা ব্যক্তি দেখলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা ট্রাফিক পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এই সফল অভিযানে স্থানীয় পর্যায়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
