রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার ও চার রাউন্ড গুলিসহ মো. জামিল হোসেন ওরফে শুটার জাকিরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযানে গ্রেফতারকৃত জাকিরের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের ম্যাগাজিনে থাকা দুই রাউন্ড গুলি, একটি কালো রঙের বিদেশি রিভলবার, রিভলবারের চেম্বারে থাকা দুই রাউন্ড গুলি এবং একটি খালি ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত জাকির একজন পেশাদার সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী শুটার হিসেবে পরিচিত।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজের আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে জাকির কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ইসলাম জয়ের সহযোগী হিসেবে মিরপুর এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে তানভীর ইসলাম জয় নিহত হওয়ার পর তিনি অপরাধী চক্রের আরেক সদস্য তাজকীরের সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, জাকির মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। গত ৭ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মিরপুর মডেল থানার সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম সিজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনার পর জাকির এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার সহযোগী শুটার মো. কাওছার ভুঁইয়া ওরফে শান্ত ওরফে এসবিকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছিল মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে মিরপুর মডেল থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং অন্যটি অস্ত্র আইনে দায়ের করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলা দুটি মিরপুর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, জাকিরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে এবং তিনি মিরপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে বিভিন্ন সময় অস্ত্র ব্যবহার করেছেন। গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
মিরপুর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত জাকিরকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা নতুন মামলার তদন্তের মাধ্যমে তার কাছে থাকা অস্ত্রের উৎস এবং এর সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, জাকিরের মতো অপরাধীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে মিরপুর এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন।
