নারায়ণগঞ্জ শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে নৌপুলিশের একজন এএসআই মদ্যপ অবস্থায় জনসম্মুখে অসংলগ্ন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার এএসআই মো. আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে এই ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যানুসারে, শুক্রবার মধ্যরাতে এএসআই আব্দুল মান্নান হঠাৎ করে বন্দর খেয়াঘাটে উপস্থিত হন এবং মদ্যপ অবস্থায় মাতলামি শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সেখানে উপস্থিত নিজের এবং আরও দুই ব্যক্তির মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন। এই আচরণের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তারা ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, এএসআই মান্নান ঘাটে টাকা রাখার একটি বাক্স থেকে টাকা বের করে আশপাশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন এবং ভিডিওতে তাকে গালাগালি করতে ও গান গাইতে শোনা যায়। এই পরিস্থিতির পর সেখানে উপস্থিত জনতা তাকে আটকে রাখে। পরে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেন এএসআই মান্নান।
এই ঘটনার পর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। নৌপুলিশের একজন সদস্যের এমন আচরণ জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান যে, বর্তমানে এএসআই মান্নানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার আরও জানান যে, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘটেছিল নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার আওতাধীন এলাকায়। পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার অর্থ হলো তাকে সাময়িকভাবে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা এবং তদন্ত চলাকালীন তাকে নজরদারিতে রাখা। তদন্ত কমিটি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখবে যে তিনি সত্যিই মদ্যপ ছিলেন কি না এবং তার আচরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না।
সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সেখানে কর্মরত ব্যক্তিরা এই ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা মনে করেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, কিন্তু এখানে উল্টো ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেনের দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করার চেষ্টা করছে।
