রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট স্থাপনের একটি নতুন পদ্ধতি নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রাথমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ যৌথভাবে এই পরীক্ষার আয়োজন করে। রাজধানীর লেক রোডে আয়োজিত এই পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটটি যেন দূর থেকে সহজে এবং স্পষ্টভাবে দেখা যায় তা নিশ্চিত করা। ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রফিকুল ইসলামসহ বিআরটিএ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষার সময় মোটরসাইকেলের সামনের অংশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন উচ্চতায় নম্বর প্লেট স্থাপন করা হয়।
এরপর দূর থেকে সেই নম্বর প্লেটগুলো কতটা স্পষ্টভাবে পড়া যাচ্ছে বা দৃশ্যমান হচ্ছে, তা যাচাই করা হয়। মূলত সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই প্রযুক্তিগত পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়েছে বলে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে। বর্তমান সময়ে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে অপরাধ শনাক্তকরণ বা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট স্পষ্টভাবে দেখা অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট না থাকায় বা অস্পষ্ট থাকায় ট্রাফিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সমস্যার সম্মুখীন হয়। এই সমস্যার সমাধানেই কর্তৃপক্ষ এখন নতুন কোনো পদ্ধতি বা নকশা প্রবর্তনের কথা ভাবছে।
পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট স্থাপনের এই পদ্ধতিটি কার্যকর হলে তা ট্রাফিক আইন প্রয়োগে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি সড়ক দুর্ঘটনারোধে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিআরটিএ এবং ট্রাফিক বিভাগের এই যৌথ উদ্যোগটি সড়ক পরিবহন খাতে আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহারের একটি অংশ। সাধারণত মোটরসাইকেলের পেছনে নম্বর প্লেট থাকলেও সামনের অংশে এটি না থাকায় অনেক সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় বা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে মোটরসাইকেল শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই নতুন পদ্ধতিটি বাস্তবায়িত হলে মোটরসাইকেলের সামনের দিকে নম্বর প্লেট থাকা বাধ্যতামূলক হবে, যা সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।
পরীক্ষার সময় বিভিন্ন উচ্চতা ও কোণে নম্বর প্লেট বসিয়ে দেখা হয়েছে যে, কোন অবস্থানে থাকলে তা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়। ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণের অংশ হিসেবেই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতির চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে এবং তা সারা দেশে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতে পারে।
বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী নম্বর প্লেটের আকার ও স্থাপনের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই নতুন এই পদ্ধতিটি কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। এই পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করবে। মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই নতুন নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হবে কি না, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর জানানো হবে।
তবে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং বিআরটিএ নিয়মিতভাবে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এই পরীক্ষাটি সেই ধারাবাহিক কার্যক্রমেরই একটি অংশ। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট স্থাপনের এই নতুন পদ্ধতিটি কার্যকর হলে তা দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
