মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক ছাত্রদল নেতাকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে উপজেলার বেথুড়ী গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আটককৃত ব্যক্তির নাম মারজান শেখ। তিনি পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে এসআই তৌহিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বেথুড়ী গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মোল্যাপাড়া মাদরাসার সামনে থেকে মারজান শেখকে আটক করা হয়। তার দেহ তল্লাশি করে এক পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। আটকের পর উপজেলা কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদমান আকিব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
মাদকদ্রব্য রাখার অপরাধে আদালত মারজান শেখকে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা জরিমানা করেন। মারজান শেখ বেথুড়ী গ্রামের আমির শেখের ছেলে। এই আটকের ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মারজান শেখকে আটকের পর তার কয়েকজন সমর্থক রাসেল, রাজা ও রানার নেতৃত্বে বেথুড়ী ব্রিজ এলাকায় প্রতিপক্ষের প্যানেল চেয়ারম্যান আহাদের ছেলে ও যুবদল নেতা মুকুলকে একা পেয়ে মারধর করেন।
এ সময় মুকুলের মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের সমর্থকরা সংগঠিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে আহতদের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মহম্মদপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সজীব শিকদার জানিয়েছেন, মারজান শেখ পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি।
তিনি ইয়াবা রাখার অপরাধে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সজীব শিকদার আরও বলেন, মারজান শেখের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদ জানান, ছাত্রদল নেতা মারজানকে আটকের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই।
এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার পর থেকে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ না ঘটে। মারজান শেখের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে নেওয়া আইনি পদক্ষেপের পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ছাত্রদলের স্থানীয় নেতৃত্ব মারজানের কর্মকাণ্ডের দায়ভার গ্রহণ না করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা ও এলাকায় শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
