ভোলার সাগর মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়া দুটি বড় আকারের ইলিশ মাছ নিলামে ১২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার সকালে ইলিশা ফেরিঘাট সংলগ্ন তালতলি মৎস্য ঘাটে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় জেলে মো. মিরাজ ও তার সঙ্গীদের জালে মাছ দুটি ধরা পড়ে। পরে তালতলি মৎস্য ঘাটের আড়তদার মো. লোকমান ব্যাপারী নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছ দুটি কিনে নেন।
নিলামে বিক্রি হওয়া মাছ দুটির একটির ওজন ২ কেজি ৫০০ গ্রাম এবং অন্যটির ওজন প্রায় ২ কেজি। আড়তদার মো. সাহাবুদ্দিন ফরাজি জানান, বৃহস্পতিবার মনপুরা ও হাতিয়া উপজেলা সংলগ্ন সাগর মোহনায় মাছগুলো ধরা পড়ে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মাছগুলো ঘাটে নিয়ে আসার পর নিলাম শুরু হয়।
কয়েক মিনিট ধরে চলা নিলামে লোকমান ব্যাপারী মাছ দুটি কিনে নেন। আড়তদার মো. লোকমান ব্যাপারী জানান, এই মাছ দুটি অন্যান্য ইলিশের সঙ্গে ঢাকায় পাঠানো হবে। ঢাকায় বড় আকারের ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিটি মাছ ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন জানান, বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। এই সময়ে ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীর দিকে প্রবেশ করে। ফলে বড় আকারের ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। তিনি আরও জানান, আগামী মাসে ইলিশের প্রজনন মৌসুম শুরু হবে। প্রজনন মৌসুমের কারণে এই সময়ে আরও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে মৎস্য বিভাগ বিভিন্ন সময় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সাগরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং প্রজনন মৌসুমের নিয়মকানুন মেনে চলায় ইলিশের আকার ও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মৎস্য সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীসহ সাগর মোহনায় প্রচুর পরিমাণে ইলিশ পাওয়া যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জেলেদের জালে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ায় স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। মাছ দুটি নিলামে ওঠার পর স্থানীয় অনেক মানুষ তা দেখার জন্য ভিড় করেন। মাছের ওজন ও আকার অনুযায়ী দাম সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ইলিশের ভরা মৌসুমে জেলেদের জালে বড় আকারের মাছ ধরা পড়া নিয়মিত ঘটনা হলেও ১৩ হাজার টাকার কাছাকাছি মূল্যে দুটি ইলিশ বিক্রি হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাছগুলো ঢাকায় পাঠানোর পর তা খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হবে। ইলিশের আকার বড় হওয়ায় এর স্বাদ ও গুণগত মান ভালো থাকে বলে ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন আরও উল্লেখ করেন যে, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলেরা এখন সাগরের নির্দিষ্ট এলাকায় মাছ ধরার নিয়ম মেনে চলছেন, যার ফলে ইলিশের বংশবিস্তার সহজ হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে ভোলার মৎস্য ঘাটগুলোতে এখন ইলিশের ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
