ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদী থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ৮ হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ করেছে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা। শনিবার বিকেলে তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে এই সার উদ্ধার করা হয়। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ডের একটি দল মেঘনা নদীতে টহল দিচ্ছিল। এসময় সন্দেহজনক একটি স্টিল বডি ট্রলারকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। ট্রলারটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৮ হাজার কেজি ইউরিয়া সার পাওয়া যায়। জব্দকৃত এই সারের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানে ট্রলারটি জব্দ করা হলেও এর সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পাচারকারীরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ট্রলার থেকে নেমে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। উদ্ধার করা সার এবং জব্দ করা স্টিল বডি ট্রলারটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তজুমদ্দিন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদী ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ পণ্য পাচারের চেষ্টা করা হয়। কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জব্দকৃত সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। তবে পাচারের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এই সার কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের জলসীমায় যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তজুমদ্দিন থানা পুলিশ জানিয়েছে, কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে হস্তান্তর করা সার ও ট্রলারের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
জব্দকৃত ট্রলারটির মালিকানা ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে কাজ করছে। সার পাচারের এই ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ করলেও অসাধু চক্র তা পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পাচার রোধে নদীপথে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ৮ হাজার কেজি সার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কোস্টগার্ডের এই সফল অভিযানের ফলে বড় ধরনের একটি চোরাচালান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কোস্টগার্ডের টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বর্তমানে জব্দকৃত ট্রলার ও সার তজুমদ্দিন থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
