ভোলার তাজুমুদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে এক জেলে নিহত হয়েছেন। শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তার বয়স ৪৬ বছর। তিনি উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেয়ামুল্লা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
পরিবার এবং সহকর্মী জেলেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম মঞ্জু শনিবার সকালে একটি ট্রলারযোগে অন্যান্য জেলেদের সাথে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। নদীর মাঝপথে মাছ ধরার কাজ চলাকালীন বিকেলে হঠাৎ বজ্রপাত হয়।
তাজুমুদ্দিনের স্লুইস গেট এলাকায় যখন এই বজ্রপাত ঘটে, তখন নজরুল ইসলাম মঞ্জু সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শী সহকর্মী জেলেদের মতে, বজ্রপাতের তীব্রতায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
তাজুমুদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, মেঘনা নদীর ওই এলাকায় বজ্রপাতের ফলে এই প্রাণহানি ঘটেছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় জেলেদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নজরুল ইসলাম মঞ্জু তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুতে গ্রামের বাসিন্দারা গভীরভাবে শোকাহত।
বজ্রপাতে মৃত্যুর এই ঘটনাটি ওই অঞ্চলের জেলেদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মেঘনা নদীর মতো খোলা জলাশয়ে মাছ ধরার সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে, যা এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
তাজুমুদ্দিন পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মৃত্যুতে তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সহকর্মী জেলেদের সাথে ট্রলারে থাকা অবস্থায় এই আকস্মিক দুর্ঘটনাটি তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ওই দিন বিকেলে মেঘনা নদীর আকাশে কালো মেঘ জমেছিল এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই মাছ ধরার কাজ চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই মর্মান্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে।
তাজুমুদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বজ্রপাতের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যু ঘটার কারণে কোনো আইনি জটিলতা নেই এবং মরদেহটি দ্রুত পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নদীকেন্দ্রিক পেশার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য এই ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করার উপায় নিয়ে কথা বলছেন স্থানীয়রা।
