মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে কোনো ভেটেরিনারি সার্জন নেই। একই সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি বিভাগটিও বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে উপজেলার পাঁচ শতাধিক খামারি এবং হাজার হাজার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে খামারিরা বাধ্য হয়ে পল্লি ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে গবাদিপশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলায় ব্যক্তিপর্যায়ে কৃষকেরা গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, হাঁস ও মুরগি পালন করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ভেটেরিনারি সার্জনের পদটি শূন্য থাকায় খামারিরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালের প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী এখানে মোট ১১টি পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন।
এই ছয়জনের মধ্যে আবার দুজন বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে মাত্র চারজন কর্মী দিয়ে পুরো উপজেলার প্রাণিসম্পদ সেবা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় খামারি কাসেম মিয়া জানান, রাজনগর ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে কোনো ধরনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। গবাদিপশু অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য কাউকে পাওয়া যায় না, যার ফলে অনেক সময় পশু মারা যায়।
হাঁসের খামারি নাজমুল জানান, ভেটেরিনারি সার্জন না থাকায় হাঁস-মুরগির রোগ দেখা দিলে সঠিক চিকিৎসার অভাবে সেগুলো প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে। খামারিদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে বারবার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানানো হলেও জনবল সংকটের কারণে কোনো সুরাহা মিলছে না। এর ফলে সাধারণ খামারিরা গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অনেক সময় ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম মোক্তাদির বিল্লাহ স্বীকার করেছেন যে, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান চিকিৎসক বা ভেটেরিনারি সার্জন নেই। তিনি জানান, সার্জন না থাকার কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যে সীমিত জনবল রয়েছে, তা দিয়েই খামারিদের সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে খামারিদের অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এই সেবা যে যথেষ্ট নয়, তা স্পষ্ট। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এই শূন্যতা বিরাজ করলেও পদ পূরণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় খামারিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সরকারি এই হাসপাতালটি অকার্যকর হয়ে পড়ায় উপজেলার প্রাণিসম্পদ খাত হুমকির মুখে পড়েছে। খামারিরা দ্রুত একজন ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগ এবং জরুরি বিভাগ চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা তাদের গবাদিপশুর সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেন।
বর্তমানে জনবল সংকটের কারণে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায়, খামারিদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
