ফরিদপুরের বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ছয়জন শিক্ষকের কাছে নিজেদেরকে সর্বহারা পার্টির সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে মোবাইলে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা চেয়ে কলেজটির পাঁচজন শিক্ষকের পক্ষে অধ্যাপক পরেশ কুমার পাল স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
হুমকি পাওয়া শিক্ষকদের তালিকায় রয়েছেন সহযোগী অধ্যাপক পরেশ কুমার পাল, সহযোগী অধ্যাপক নিলয় কুমার সাহা, সহযোগী অধ্যাপক সজল কান্তি বিশ্বাস, সহযোগী অধ্যাপক প্রদীপ কুমার সাহা, সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রায় এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন লস্কর। গত দুই দিন ধরে শিক্ষকদের কাছে এই ফোন কলগুলো আসতে থাকে।
সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে অধ্যাপক পরেশ কুমার পালের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে ‘গৌতম বিশ্বাস’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন যে তিনি সর্বহারা পার্টির বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা এবং মধুখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য।
ওই ব্যক্তি কথা বলার সময় উল্লেখ করেন যে তিনি সিরাজ সিকদারের ছোট ভাই মহিউদ্দিন সিকদারের সঙ্গে কথা বলেছেন। n
ফোনদাতা প্রথমে এক লাখ টাকা এবং প্রাথমিক হিসেবে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার ৫০০ টাকা ‘টোকেন মানি’ হিসেবে দাবি করেন। তিনি শিক্ষকদের চাপ দিয়ে বলেন যে, এমনকি চা-পানের দোকানিরাও টোকেন মানি দিয়ে সহায়তা করেন। তিনি দাবি করেন যে, তাদের সহকর্মীদের জেল থেকে মুক্ত করতে এই অর্থের প্রয়োজন।
টাকা না দিলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পরেশ পাল।
সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রায় জানান, তার ফোনে কল করে টাকা দাবি করা হয়। তিনি যখন টাকা দিতে অপারগতা জানান, তখন ফোনদাতা তাকে হুমকি দেন যে, তার ছেলের পায়ে গুলি করা হবে। ফোনদাতা তাকে বলেন যে, তার ছেলের চিকিৎসার জন্য যেভাবে টাকা সংগ্রহ করে চিকিৎসা করাবেন, সেভাবে পরিচিতদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে দ্রুত অর্থ পাঠাতে হবে।
n
সহযোগী অধ্যাপক নিলয় কুমার সাহা বলেন, ফোনদাতারা তাদের সহকর্মীদের কারাগার থেকে জামিনে ছাড়াতে অর্থের প্রয়োজন বলে টাকা দাবি করেন। তিনি জানান, টাকা না দিলে তার পরিবারসহ তার নিজের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন লস্কর জানান, দু’দিন আগে তাকেও ফোন করে চাঁদা চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, আতঙ্কে তিনি ফোনদাতাদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন।n
এই বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যে এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যে পুলিশ বর্তমানে এই বিষয়ে তদন্ত করে কাজ করছে। তবে তার প্রাথমিক ধারণা, কোনো প্রতারক চক্র চরমপন্থী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে শিক্ষকদের কাছে টাকা দাবি করে এই প্রতারক চক্রের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
