দোহারের মৈনট ঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে বুয়েট শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল নিয়ে আজ রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, আদালতে শুনানি হবে। এর আগে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন করে এই তারিখটি নির্ধারণ করেছিলেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কুতুবপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জহিরুল ইসলাম গত ৩ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করার কথা ছিল, তবে তিনি তা জমা দিতে পারেননি। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবর রহমান নতুন তারিখ হিসেবে আজ ৬ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন।
মামলাটি দায়ের করার পর থেকে এখন পর্যন্ত চার বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আজকের শুনানির দিকে বিশেষ নজর রাখছেন।
এই হত্যা মামলায় মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন শরীফুল হোসেন, শাকিল আহম্মেদ, সেজান আহম্মেদ, মো. রুবেল, মো. সজীব, মো. নুরুজ্জামান, মো. নাসির, মো. মারুফ, মো. আশরাফুল আলম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন, মো. নোমান, মো. জাহিদ, এটিএম শাহরিয়ার মোমিন, মো. মারুফুল হক এবং রোকনুজ্জামান ওরফে জিতু।
মামলার নথি অনুযায়ী, এই ১৫ জন আসামির সবাই বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৪ জুলাই ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে পদ্মা নদীতে বেড়াতে গিয়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যার পর দলটির সদস্য এবং বুয়েট শিক্ষার্থী তারিকুজ্জামান সানি নিখোঁজ হয়ে যান।
সানির নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে দোহার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। পরদিন ১৫ জুলাই সকালে পদ্মা নদী থেকে সানির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল।
সানির বড় ভাই হাসাদুজ্জামান ওই দিন বিকেলে দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা এই মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত এর আগে একাধিকবার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ ৩ আগস্টের নির্ধারিত তারিখে প্রতিবেদনটি জমা না পড়ায় আদালত আজ ৬ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেছিলেন।
এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চার বছরের দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়া এবং আসামিদের জামিনে থাকা পরিস্থিতি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার গতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পদ্মা নদীর মৈনট ঘাটে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি বুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের প্রভাব ফেলেছিল। সানির মৃত্যুতে তার পরিবার এবং পরিবারবর্জিত আত্মীয়স্বطنينের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বন্ধুদের মধ্যে গভীর শোকের শোকের আবহ তৈরি হয়েছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহিরুল ইসলাম এবং নৌ-পুলিশের তদন্তকারী দলের কাজগুলো এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিবেদনটি আজ জমা দেওয়া হয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো হবে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল দাখিল করা হয়েছে কি না তা নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগপত্র দাখিরির পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি সংগ্রহ করে বিচার নিশ্চিত করা হয়।
সানির পরিবার এবং সংশ্লিষ্টরা এখন কেবল ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন। দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার পর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখটি আজকের শুনানি শুনানির দিকে গুরুত্ব প্রদান করে।
