প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন যে বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করলে তা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে গ্রাহকরা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। বুধবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা তাদের বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম স্থাপন করবেন, তাদের গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ক্রয় করবে। এই মূল্যের মধ্যে বাল্ক রেটের অতিরিক্ত অর্থ সরকার প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করবে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ৬ থেকে ৭ টাকা ব্যয় হয়।
সরকার নির্ধারিত এই নতুন ক্রয়মূল্য কার্যকর হলে গ্রাহকরা বিনিয়োগের বিপরীতে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই বিশেষ সুবিধা পরবর্তী তিন বছরের জন্য বলবৎ থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ তৈরির জন্য সরকার বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা প্রদান করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ গত ৮ জুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার এবং ব্যাটারির মতো সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ওপর থেকে সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া শর্তসাপেক্ষে ২ শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রুফটপ সোলার বা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রস্তুত করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালগুলোর ছাদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সংস্থাকে এই প্রকল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশের সব জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এরই মধ্যে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি সরকার পানিবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পানিবিদ্যুৎ ও বায়ু বিদ্যুতের সম্ভাবনা যাচাই করে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
সরকার বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এই রুফটপ সোলার কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জন্য যেমন আয়ের নতুন পথ তৈরি করবে, তেমনি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়িয়ে লোডশেডিংয়ের মতো সমস্যা সমাধানেও ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রতিটি বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার উৎসাহিত হবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।
সংসদীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকার সব ধরনের নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
