বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের এক এজেন্সি থেকে অন্য এজেন্সিতে স্থানান্তরের জন্য পাঁচ দিনের একটি বিশেষ সুযোগ প্রদান করেছে সরকার। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই কার্যক্রমটি ২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্টদের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সরকার নির্ধারিত হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা প্রতিটি এজেন্সিকে বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হজযাত্রীর লিখিত অনুমতি ছাড়া তাকে এক এজেন্সি থেকে অন্য এজেন্সিতে স্থানান্তর করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
হজযাত্রীর ব্যক্তিগত সম্মতি ছাড়া এই ধরনের কোনো পরিবর্তন করা হলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, একজন হজযাত্রীকে একাধিকবার স্থানান্তর করার সুযোগ রাখা হয়নি। অর্থাৎ, কোনো হজযাত্রী একবার এক এজেন্সি থেকে অন্য এজেন্সিতে স্থানান্তরিত হলে তাকে পুনরায় অন্য কোনো এজেন্সিতে স্থানান্তর করা যাবে না।
এই নিয়মটি কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য সকল বেসরকারি হজ এজেন্সিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। যদি কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে হজযাত্রীর লিখিত সম্মতি ছাড়া স্থানান্তর করার অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই সাথে, কোনো হজযাত্রীকে একাধিকবার স্থানান্তর করার অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২১’ এবং ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২’-এর আলোকে কার্যকর করা হবে। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য এই নিয়মগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেসরকারি এজেন্সিসমূহকে এই সময়ের মধ্যে তাদের হজযাত্রীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। হজ কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এই সরকারি নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। হজ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় নিয়মিত তদারকি করবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হজযাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং হজ পালনের প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো স্থানান্তর আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
হজ পালনের উদ্দেশ্যে প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। হজ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সকল স্টেকহোল্ডারদের এই নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য পুনরায় সতর্ক করা হয়েছে। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে হজযাত্রীরা তাদের পছন্দমতো এজেন্সির মাধ্যমে হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন, তবে তা অবশ্যই আইন ও নিয়মের কাঠামোর মধ্যে থেকে করতে হবে।
