বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষককে এক লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে। রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সভায় এই তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক এবং বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যরা। মন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন জানান, শিক্ষকদের সম্মান জানানো এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, শিক্ষকদের এই সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন।
বর্তমান সরকার শিক্ষকদের অবদানের মূল্যায়ন করতে চায় এবং তাদের কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, আগের সরকার ১২ জন শিক্ষককে মোট ২৪ লাখ টাকা প্রদান করত, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষক পেতেন দুই লাখ টাকা করে। বর্তমান সরকার সেই পরিধি বাড়িয়ে ১০০ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় মোট এক কোটি টাকার অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচিত ১০০ জন শিক্ষকের প্রত্যেকে এক লাখ টাকা করে পাবেন। এই সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। মন্ত্রী জানান, এই নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনদের সাথে আলোচনা করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরি করা হবে যাতে প্রকৃত গুণী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকরা এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হতে পারেন। সভায় উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা এই উদ্যোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদানের গুরুত্বের ওপর সভায় জোর দেওয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর শিক্ষকদের নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং পুরস্কার প্রদানের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। সরকার মনে করে, শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করলে তারা নতুন প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত হবেন।
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। এই অনুদান প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের পেশাগত সম্মানও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের নির্বাচন করা হবে।
পুরো বিষয়টি তদারকি করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই কার্যক্রমটি সম্পন্ন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে এবং শিক্ষকদের মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে এই সম্মাননা প্রদান একটি বিশেষ অংশ। আগামী দিনেও শিক্ষকদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে সভায় আলোচনা করা হয়।
শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সবশেষে, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে সভায় ঐকমত্য পোষণ করা হয়।
