বিশ্বমঞ্চে কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সাফল্য অর্জনকারী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে যারা বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন, তাদের সংবর্ধনা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, শুধু সংবর্ধনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়, বরং তাদের সম্মানিত করার আরও যেসব সুযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রের উচিত সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। হাফেজদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে প্রকারান্তরে দেশকেই সম্মানিত করা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও বিশ্বমঞ্চে বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এযাবৎকালে যত হাফেজে কোরআন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে বিজয়ী হয়েছেন, তাদের জন্য একটি সংবর্ধনার ব্যবস্থা অচিরেই করা হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ঘটলে রাষ্ট্রে ভালো নাগরিক তৈরি হবে এবং একটি ভালো দেশ গড়তে হলে ভালো নাগরিকের প্রয়োজন।
বাংলাদেশে নৈতিক শিক্ষার উৎকর্ষ সাধন হচ্ছে ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে। এই শিক্ষার যত বিকাশ ঘটবে, জাতি তত বেশি উপকৃত হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, নৈতিক শিক্ষার যত বেশি বিকাশ হবে, রাষ্ট্রে তত বেশি ভালো নাগরিক তৈরি হবে। ইসলামী শিক্ষা ও মাদরাসা শিক্ষাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, দেশের দরিদ্র মানুষও বিভিন্নভাবে কর দিয়ে রাষ্ট্রের কোষাগারে অবদান রাখে। তাই কওমি ও হিফজ শিক্ষাব্যবস্থাকে ধরে রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। যারা কওমি সিস্টেমের এই শিক্ষাটাকে ধরে রেখেছেন, যারা হিফজের এই শিক্ষাটাকে ধরে রেখেছেন, তাদের প্রতি সরকারের কোনো কমিটমেন্ট নেই, কোনো ডেলিভারি নেই-এটা একটি পরিষ্কার বৈষম্য।
মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থায় উৎসাহ দেওয়ার কথাও বলেন জামায়াত আমির। তার ভাষ্য, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী একদিকে মাদরাসায় শিক্ষা নিচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করছেন। দুই ধারার শিক্ষার সমন্বয়কে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই দুই শিক্ষার সমন্বয় যেখানে হচ্ছে, এটা আরও ভালো।
আমরা এটাকে আরও উৎসাহিত করতে চাই। সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সাধুবাদ জানাবে বলেও জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি ভালো কাজটি করে, আমরা সরকারের প্রতি সাধুবাদ জানাবো এবং দোয়া করবো-ভালো কাজের শক্তি যেন আল্লাহ সরকারকে আরও বেশি দেন।
তবে, বিষয়টি উপেক্ষা করলে সরকার একটি ভালো সুযোগ হারাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্বমঞ্চে বিজয়ী হাফেজদের সাফল্যের পেছনে তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে বিদেশি একজন শিক্ষক বা সহযোগীর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করে সুযোগ পেলে তাকেও সম্মান জানানোর কথা বলেন তিনি।
এই সংবর্ধনা উদ্যোগের মাধ্যমে হাফেজদের অর্জনকে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিটি আরও জোরালো হলো।
