বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘নজরুলের লেটোগান ও কবিগান’ শীর্ষক এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। নজরুল বর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে একাডেমি এই বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। এই আয়োজনের প্রথম পর্বে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে। এই পর্বে বিভিন্ন শিল্পীর অংশগ্রহণে লেটোগান ও কবিগান পরিবেশিত হবে। লেটোগান ও কবিগান বাংলার লোকজ সংস্কৃতির দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উজ্জ্বল শিল্পধারা।
নজরুলের গানে বাংলার মানুষের জীবনকথা ফুটে ওঠে। তিনি বাংলার লোকজ জীবন ও সংস্কৃতির সহজ-সরল অথচ গভীর প্রাণরস থেকে তার সাহিত্যের জন্য অনন্য ভাষা খুঁজে নিয়েছিলেন। লেটোগান ও কবিগানে গান হয়ে ওঠে কথোপকথন এবং ছন্দ হয়ে ওঠে জনজীবনের স্পন্দন। এই শিল্পধারার মাধ্যমে শিল্পীরা সাধারণ মানুষের আনন্দ ও বেদনার মুখপাত্র হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করেন।
নজরুল বর্ষ উদযাপনের ধারাবাহিকতায় এর আগে শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা অনুষ্ঠান, শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিশেষ অনুষ্ঠান এবং সংগীতসন্ধ্যাসহ নানা ধরনের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামীকালের এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যে কেউ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। নজরুল বর্ষ উদযাপনের এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে শিল্পকলা একাডেমি।
লেটোগান ও কবিগান বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নজরুলের লেখনীতে এই লোকজ ধারার প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে নতুন করে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। শিল্পকলা একাডেমি আশা করছে যে, এই আয়োজনের মাধ্যমে নজরুল চর্চা এবং লোকজ সংস্কৃতির প্রসার আরও বেগবান হবে।
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য একাডেমির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি নজরুল বর্ষ উদযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটি লোকসংগীত প্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ।
লেটোগান ও কবিগানের মাধ্যমে বাংলার চিরায়ত লোকজ সংস্কৃতির যে রূপ ফুটে ওঠে, তা নজরুলের গানের সাথে একাত্ম হয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্বের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য একটি তথ্যবহুল ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
