বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে অত্যাধুনিক সি-আর্ম ফ্লুরোস্কোপি ইমেজিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের দশম তলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এই মেশিনটি চালুর মাধ্যমে অর্থোপেডিক সার্জারি সেবায় নতুন সক্ষমতা যুক্ত হলো যা হাড়ের জটিল অস্ত্রোপচারকে আরও নিরাপদ ও নিখুঁত করবে।
অস্ত্রোপচার চলাকালীন রোগীর হাড়ের রিয়েল-টাইম বা লাইভ এক্স-রে ইমেজ সরাসরি দেখার সুবিধা থাকায় সার্জনরা এখন থেকে আরও কার্যকরভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রোগীদের বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন যে এই আধুনিক সি-আর্ম মেশিন অর্থোপেডিক সার্জনদের কর্মদক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এর ফলে জটিল হাড়ের ফ্র্যাকচার নিয়ে আসা রোগীরা এখন দেশেই অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সার্জারি সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। উপাচার্য আরও জানান যে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সংযোজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত ও জনবান্ধব করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিএমইউর প্রক্টর ও অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন যে সি-আর্ম প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের সময় ভাঙা হাড়ের অবস্থান এবং অস্ত্রোপচারের অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এর ফলে ফ্র্যাকচার চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ক্রু, প্লেট, রড, ইমপ্ল্যান্ট ও কে-ওয়্যার সঠিক অবস্থানে স্থাপন করা হয়েছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যাবে। অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ আরও জানান যে এই প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি বা ন্যূনতম কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করার সুযোগ।
এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাটাছেঁড়ার পরিবর্তে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে জটিল ফ্র্যাকচারের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। অপারেশনের সময় লাইভ ইমেজিং সুবিধা থাকায় সার্জনরা দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এতে অস্ত্রোপচারের সময় কমানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় কাটাছেঁড়া ও টিস্যু ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে রক্তক্ষরণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও বাড়বে।
অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান যে নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল সি-আর্ম প্রযুক্তিতে তুলনামূলকভাবে কম রেডিয়েশন ডোজ ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এটি রোগী এবং অপারেশন থিয়েটারে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য অধিক নিরাপদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একান্ত সচিব অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, নার্স এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই নতুন প্রযুক্তির সংযোজন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ আরও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারেন। এই মেশিনটি স্থাপনের ফলে অর্থোপেডিক বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন থেকে আরও জটিল ও সংবেদনশীল অস্ত্রোপচারগুলো বিএমইউতে সম্পন্ন করা সহজতর হবে।
