হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানান।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন। এই রিট আবেদনের মাধ্যমে অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। গত ৫ মার্চ অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
রিট আবেদনে অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে বিবাদী করা হয়েছিল। রিটকারী তার আবেদনে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করেছিলেন। একই সঙ্গে গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণ সংক্রান্ত পৃথক দুটি গেজেটের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল।
রিট আবেদনে আহসান এইচ মনসুরকে তার মেয়াদের আগেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সংযুক্ত করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছিল।
তার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে দেশের ব্যাংক খাত সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, আহসান এইচ মনসুরের মেয়াদ ২০২৮ সালের আগস্ট মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। একটি প্রজ্ঞাপনে মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং অন্যটিতে আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আইনি আলোচনার সূত্রপাত হয়। রিটকারী আইনজীবী তার আবেদনে দাবি করেছিলেন যে, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী একজন গভর্নরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া এবং নতুন নিয়োগ প্রদানের প্রক্রিয়ায় আইনি ত্রুটি থাকতে পারে। তবে আদালত শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে দেওয়ায় মোস্তাকুর রহমানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা রইল না।
এই আদেশের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো এবং গভর্নর নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পেল। আদালত রিট খারিজ করার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা বহাল রাখলেন। রিট খারিজের ফলে গভর্নর নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন দুটি কার্যকর থাকবে এবং মোস্তাকুর রহমান তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। দেশের আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই নিয়োগ ও পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
আদালত তার আদেশে রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করার মাধ্যমে এই আইনি বিতর্কের অবসান ঘটালেন।
