জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেছেন যে, রাজপথে বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিরোধী দলকে আঘাত করলে পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকার যদি বিরোধী দলের সহযোগিতা পেতে চায়, তবে তাদের提出的 ৬ দফার প্রতিটি দফা মেনে নিতে হবে।
শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে পরিচালিত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের অংশ হিসেবে ফেনী জেলায় আয়োজিত এক পথসভায় নাহিদ ইসলাম এই কথাগুলো বলেন। ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবদুর রহীমের সঞ্চালনায় এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় উপস্থিত জনতার ব্যাপক সাড়া প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তার মতে, এই গণসাড়া দেখে সরকারের বোঝা উচিত যে সাধারণ মানুষ আসলে কী চায়। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই জনসমাবেশে দেখা যাচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে গণঅভ্যূত্থানের সময়ের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গণঅভ্যূত্থানের সময় আশা করা হয়েছিল যে দেশে আর দুর্নীতি থাকবে না এবং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটবে। এছাড়া তিনি আশা করেছিলেন যে প্রতিটি নাগরিকের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তবে তার অভিযোগ, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে মানুষের কর্মসংস্থানগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, বর্তমান সরকার দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করছে এবং দেশ উল্টো পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির কারণেই বিরোধী দলগুলো লংমার্চ করতে বাধ্য হয়েছে বলে তিনি জানান।
এই পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিরোধী দলগুলোর দাবি এবং ৬ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন না হলে তারা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা দমন-নিপীড়নের পথ ছেড়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে এবং বিরোধী দলের দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।
