রাজধানীর বনানী এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজন ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বনানীর এ ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের খায়ের প্যালেসের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত পাঁচজন হলেন মো. মাসুদ রানা (২৯), মো. রাজিব হাওলাদার (৩০), হাফিজুল মাতব্বর (২৪), মোহাম্মদ শাকিল হোসেন (২৪) এবং মো. বাদল (৪২)।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ডাকাত দলের সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, একটি ওয়াকিটকি এবং বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত একজোড়া হ্যান্ডকাফ। এছাড়া তাদের কাছ থেকে এক রোল কালো স্কচটেপ, একটি শপিং ব্যাগ এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হায়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ এখন তাদের অতীত অপরাধের ইতিহাস এবং কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এছাড়া তাদের কাছে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস সম্পর্কেও বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার জন্য গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এবং এলাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার মাধ্যমে একটি বড় ধরনের ডাকাতির পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙার লক্ষ্যে পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই অপরাধীরা ধরা পড়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমনে তাদের এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় দায়ের করা মামলায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এই অপরাধের জন্য তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। পুলিশ প্রশাসন সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বিস্তারিত পরিচয় এবং তাদের পূর্বের কোনো অপরাধের রেকর্ড আছে কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।
