২০২৫ সালের জুন মাসে কোরবানির ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে তিন বন্ধু মিলে বান্দরবানে চারদিনের একটি ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। প্রথাগত ভ্রমণ গাইডের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মতো করে এলাকাটি ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করেন তারা। ৯ জুন বিকেলে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে পরদিন সকালে তারা চট্টগ্রাম পৌঁছান এবং সেখান থেকে বাসে করে বান্দরবান শহরে উপস্থিত হন।
বান্দরবান সেনানিবাসের কাছাকাছি একটি পাহাড়ি কটেজে তারা তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করেন। ভ্রমণের প্রথম দিন তারা স্থানীয় পাহাড়ের চূড়ায় ঘুরে বেড়ান এবং বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ি পথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তারা পাহাড়ি পরিবেশের সাথে পরিচিত হন এবং রাতের খাবারে পাহাড়ি মুরগি ও স্থানীয় সবজি গ্রহণ করেন।
ভ্রমণের দ্বিতীয় দিনে তারা শৈলপ্রপাত ঝরনায় যান। সেখানে পর্যটকদের ভিড় থাকায় তারা ঝিঁরিপথ ধরে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং একটি জুমঘরে সময় কাটান। এরপর তারা নীলাচল পাহাড়ে যান। নীলাচলে যাওয়ার জন্য তারা পুরোনো পাহাড়ি পথ ব্যবহার করেন। পাহাড়ি আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে তারা একই দিনে তীব্র রোদ ও ভারী বৃষ্টির মুখোমুখি হন।
নীলাচল থেকে ফেরার পথে তারা স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করেন। ভ্রমণের তৃতীয় দিনে তারা দেবতাখুম ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ি হয়ে কচ্ছপতলী বাজারে পৌঁছান তারা। দেবতাখুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে নাম এন্ট্রি করতে হয়। দেবতাখুমে যাওয়ার জন্য তারা বাঁশের ভেলা ব্যবহার করেন।
খুমের ভেতরে পানির গভীরতা ৩০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা যায়। সেখানে অবস্থানকালে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে তারা দ্রুত ফিরে আসেন। ফেরার পথে স্থানীয় এক বাসিন্দার সহায়তায় তারা মোটরসাইকেলে করে রোয়াংছড়ি পৌঁছান। ভ্রমণের চতুর্থ ও শেষ দিনে তারা চিম্বুক পাহাড়ে যান।
বান্দরবান বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে চিম্বুক যাওয়ার পথে তারা বাসের ছাদে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেন। চিম্বুক পাহাড়ে পানির সংকটের বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন তারা। সেখানে হেলিপ্যাড এলাকা থেকে মেঘের চলাচলের দৃশ্য উপভোগ করেন তারা। পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের সময় তারা স্থানীয় পরিবহন হিসেবে চান্দের গাড়ি, সিএনজি, মাহিন্দ্রা ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করেছেন।
ভ্রমণের প্রতিটি পর্যায়ে তারা পাহাড়ি জনপদের বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। চারদিনের ভ্রমণ শেষে তারা বান্দরবান থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং পরদিন ভোরে গাবতলীতে পৌঁছান। এই ভ্রমণে তারা মূলধারার পর্যটন স্পটগুলোর পাশাপাশি পাহাড়ি জনজীবনের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও পাহাড়ি ঢলের মতো প্রাকৃতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তা এই ভ্রমণে ফুটে উঠেছে।
স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ এবং তাদের সহায়তায় দুর্গম এলাকায় যাতায়াত সহজতর হয়েছে। পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত স্পটগুলোতে সুযোগ-সুবিধা থাকলেও মূলধারার বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থানীয় গাইড বা বাসিন্দাদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো ভ্রমণের সময় তারা পাহাড়ি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এই ভ্রমণটি মূলত প্রথাগত পর্যটন গাইড অনুসরণ না করে নিজেদের মতো করে পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখার একটি প্রচেষ্টা ছিল।
ভ্রমণের প্রতিটি ধাপে তারা নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন এবং পাহাড়ি পরিবেশের প্রতিকূলতা ও সৌন্দর্য উভয়ই প্রত্যক্ষ করেছেন। বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য তাদের এই চারদিনের ভ্রমণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ভ্রমণের সমাপ্তিতে তারা পুনরায় বান্দরবানে আসার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন।
