বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য ও গালিগালাজ করার অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহ নামের এক যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সিফাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার বাসিন্দা সিকান্দর আলীর ছেলে।
তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল গাছা থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করে। পরে রাত নয়টার দিকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিফাত আব্দুল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারক পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও লেখালেখি করে আসছিলেন। সবশেষ বৃহস্পতিবার তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে তাকে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, তার বাসায় চলতি মাসে চার হাজার টাকা এবং আগের মাসে পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তার অভিযোগ, এই বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত বিল আসার ক্ষোভ থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
এরপরই পুলিশ তাকে আটক করে। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বর্তমানে সিফাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। সিফাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, সিফাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সিফাত আব্দুল্লাহর পরিবারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
