প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, বিদ্যুৎ বিলের অসামঞ্জস্যতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে অশ্লীল ও কদর্য ভাষায় গালিগালাজ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ বিলের অসামঞ্জস্যতা দেখা দিলে তা সমাধানের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেওয়া আছে।
কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে আক্রমণ করা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভারসাম্যতা নষ্ট করার শামিল। তিনি আরও বলেন, যে যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, সে প্রধানমন্ত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
অন্যথায় সমাজে এই প্রবণতা একটি ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। রাশেদ খাঁন প্রশ্ন রাখেন, ওই যুবককে পুলিশ হেফাজতে না নিলে জনতার বিক্ষুব্ধতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল কি না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো পশ্চিমা বিশ্বের মতো সামাজিক কাঠামোয় পৌঁছায়নি, তাই সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়া প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল। রাশেদ খাঁনের দাবি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের শাসনামলে এমন সব ছক তৈরি করে গেছে, যাতে সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে হতাশ হয় এবং বিগত সময়ের কথা স্মরণ করে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ চুক্তি এবং ৩৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করেছিল। তার মতে, যদি ওই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হতো, তবে বর্তমান জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ খাতের জটিলতাগুলো তৈরি হতো না। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া ওইসব সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যই ছিল নির্বাচিত সরকারকে বিপদে ফেলা, যাতে সাধারণ মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি হয় যে তারা আগের শাসনামলে ভালো ছিলেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর পরিবার ও তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে আটক করা হয়। রাশেদ খাঁন তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমির অতীতে সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে গালিগালাজ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তিনি সামাজিক সুস্থতা বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, অপরাধীদের উৎসাহ প্রদান করলে তা রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বিদ্যুৎ খাতের সংকট এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্য বেশ গুরুত্ব বহন করছে।
তিনি মনে করেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রাতিষ্ঠানিক পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাইবার অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
