রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি তিনি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিনি পুলিশকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো নাগরিক যেন অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।
এছাড়া বর্তমান সময়ে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে নিয়মিত অবহিত রাখা প্রয়োজন। অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান যে, পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখতে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পুলিশি সেবাকে আরও জনবান্ধব করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইজিপি রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি পুলিশ প্রধানকে আশ্বস্ত করেন যে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রপতির এই নির্দেশনা পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনী যেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
অপরাধ দমনে পুলিশের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি।
