বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রামের পালপাড়া এলাকায় অবস্থিত তন্ময় ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি বেকারিতে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রোববার দুপুরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সহায়তা প্রদান করে র্যাব-১২ বগুড়া এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা এই বেকারিতে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, বেকারিটিতে উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের মোড়কে কোনো প্রকার উৎপাদন তারিখ বা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ নেই। এছাড়া বেকারি পণ্য তৈরির উপকরণ হিসেবে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত লবণ এবং স্যাকারিন মেশানো হচ্ছিল। এই ধরনের রাসায়নিক ও শিল্প গ্রেডের উপাদান খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে অপরাধের সত্যতা পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ তাদের দোষ স্বীকার করে নেয়। এরপরই ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ জব্দকৃত ১০ কেজি শিল্পকারখানার লবণ ও স্যাকারিন জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।
সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান আরও জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযানে জব্দকৃত উপকরণগুলো সরাসরি খাদ্যপণ্যে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ছিল। শিল্পকারখানার লবণ সাধারণত চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ বা অন্যান্য শিল্প কাজে ব্যবহৃত হয়, যা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়।
একইভাবে স্যাকারিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বেকারিতে এ ধরনের উপকরণের উপস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নিয়মিত তদারকি না থাকায় অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা কম খরচে পণ্য তৈরির জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে থাকেন। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত বাজার তদারকি করে আসছে।
বিশেষ করে বেকারি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বগুড়া জেলাজুড়ে এই ধরনের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভেজালবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই অভিযান স্থানীয় সচেতন মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের নিয়মিত অভিযানের ফলে খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।
অভিযানের সময় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা সরকারি নিয়ম মেনে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করেন। কোনো অবস্থাতেই জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক বা শিল্প গ্রেডের উপাদান খাদ্যদ্রব্যে মেশানো যাবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
