বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর গাড়ির ধাক্কায় ফিরোজা বেগম নামের পঁচাত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ব্রিজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সোয়া এগারোটার দিকে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।
নিহত ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জের কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তার গাড়িবহরটি শিবগঞ্জের কিচক ব্রিজের সামনে পৌঁছালে রাস্তা পার হওয়ার সময় ফিরোজা বেগমকে ধাক্কা দেয়। ওই বৃদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের নিচু জমিতে নেমে যায়।
দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, তার স্ত্রী, চালক এবং গানম্যান মুক্তারুল অবস্থান করছিলেন। এই দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী নিজেও পায়ে আঘাত পেয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই প্রতিমন্ত্রীকে অন্য একটি গাড়িতে করে চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতের ভাতিজা মো. জাকির জানান, তার চাচি সকালে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। বয়স্ক মানুষ হওয়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় তিনি সম্ভবত মন্ত্রীর গাড়িবহর খেয়াল করতে পারেননি।
তখনই গাড়ির সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। নিহতের আরেক ভাতিজা মোহাম্মদ ইমরান আলী নয়ন জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে তিনি পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সময় ওই এলাকায় গাড়িবহরের গতি এবং রাস্তা পারাপারের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুততার সঙ্গে আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়টি স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
দুর্ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে। প্রতিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া না গেলেও তিনি জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ এই দুর্ঘটনার কারণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখছে।
