বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী একটি সরকারি গাড়ির ধাক্কায় ফিরোজা বেগম নামের এক নারী পথচারী মারা গেছেন। আজ শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ষাট বছর বয়সী ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয় আজ সকাল পৌনে নয়টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে তাঁর নির্বাচনী এলাকা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন। গাড়িতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী নাজমা আরা বেগমও ছিলেন।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের একটি গাড়িও তাঁদের সঙ্গে ছিল। মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজা বেগম রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তিনি হঠাৎ প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সামনে চলে আসেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে চালক দ্রুত ব্রেক কষলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সড়কের পাশের একটি ধানখেতে গিয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় ফিরোজা বেগম গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী এবং তাঁর স্ত্রী নাজমা আরা বেগমও আঘাত পান। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহত ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আজ দুপুরে তিনি মারা যান। প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম জানিয়েছেন, পথচারী ওই নারীকে বাঁচাতে গিয়েই চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গাড়িটি ধানখেতে নেমে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত ফিরোজা বেগমের পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়ির গতি ও চালকের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করা হবে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সরকারি গাড়ির এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহাসড়কের ওই অংশটি বেশ ব্যস্ত থাকে এবং পথচারীদের পারাপারের সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা মহাসড়কে নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর থেকে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
