বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার রাতে যখন শহরের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক নামের এক রোগী মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আব্দুল মালেক অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। রোগীর মৃত্যুর পর তার স্বজনরা অভিযোগ করেন যে ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
এক পর্যায়ে রোগীর স্বজনরা উপস্থিত তিনজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন। সহকর্মীদের বাঁচাতে আদনান ইসলাম অর্ক নামের আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তার ওপরও আক্রমণ করেন। এরপর অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই ঘটনায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ রোগীর ছয়জন স্বজনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে স্থানীয় ছাত্রদলের চারজন নেতা রয়েছেন। তাদের মধ্যে বগুড়া শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে শজিমেক হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি চারজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ জানিয়েছেন, বহিরাগতদের হামলায় অন্তত ছয়জন চিকিৎসক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কারো কারো হাত ভেঙে যাওয়ার মতো গুরুতর জখম রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। হাসপাতালের উপ-পরিচালক মনজুর-এ-মোর্শেদ চিকিৎসকদের ওপর এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তিনি নিশ্চিত করেছেন যে বহিরাগতদের হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেল মিলিয়ে মোট ছয়জন চিকিৎসক জখম হয়েছেন। তিনি আরও জানান, হাসপাতাল প্রশাসন এবং জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক নেতারা পরিস্থিতি সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জ্যেষ্ঠ এবং মিড লেভেলের চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম আলী জানিয়েছেন, পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে দুজন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
