বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার গ্রাম আদালত বসছে। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ বড় আকার ধারণ করার আগেই দ্রুত মীমাংসা করার লক্ষ্যে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পাওনা টাকা আদায়, পারিবারিক কলহ এবং সামান্য মারধরের মতো অভিযোগগুলো এখানে শুনানি করা হয়।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে মোট ৮৮টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ৪৮টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে বাড়ির কাছেই ছোটখাটো বিরোধের সমাধান পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে কুসুম্বি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আটজন বিচারপ্রার্থী তাদের বিরোধের শুনানির জন্য উপস্থিত হয়েছেন। দক্ষিণ আমইন গ্রামের বাসিন্দা জমির উদ্দিন জমি চাষাবাদ নিয়ে বিরোধের জেরে গ্রাম আদালতে এসেছিলেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সেখানে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। জমির উদ্দিন জানান, গ্রাম আদালতে আসার ফলে তার সময় ও হয়রানি দুটিই কমেছে।
একই দিনে কুসুম্বি ইউনিয়ন পরিষদে আদুরী খাতুন নামের একজন বিচারপ্রার্থী জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে শুনানি শেষে তার পক্ষে সিদ্ধান্ত পেয়েছেন। এছাড়া সুলতান প্রামাণিক পারিবারিক গোরস্তানের জায়গা নিয়ে এবং আবেদা খাতুন শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। খামারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ পাঁচ সদস্যের একটি দল গ্রাম আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
এই প্রক্রিয়ায় দুই জন ইউপি সদস্য এবং বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের দুজন করে গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকেন। খামারকান্দি ইউনিয়নে গত আগস্ট মাসে চারটি মামলার মধ্যে তিনটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং মঙ্গলবারও জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া গাড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তবিবুর রহমান জানান, গত মাসে তার ইউনিয়নে সাতটি মামলার মধ্যে দুটি নিষ্পত্তি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, বাড়ির কাছেই বিরোধের বিচার পাওয়ার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের ঝামেলা বা বড় ধরনের বিরোধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও এর ফলে হ্রাস পাচ্ছে। গ্রাম আদালত সচল রাখার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদের নির্দিষ্ট কক্ষে বিচারপ্রার্থী ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম চলে। বিচারপ্রার্থীরা শুনানির অপেক্ষায় থাকেন এবং রায় বা সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ার পর তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি যাচাই করে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শেরপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই এই কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা স্থানীয় বিচার ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে।
