বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এক অনুষ্ঠানে বক্তারা অ্যানেসথেসিয়া, ইনটেনসিভ কেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সমন্বয়ে একটি নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ১১ শয্যার আইসিইউ-১ এর শুভ উদ্বোধন এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অধীনে পাঁচটি কোর্সের ৮১ জন নার্সের সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, মুমূর্ষু রোগীদের সেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নার্সিং সেবার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য এবং রোগীদের প্রয়োজনেই এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। তিনি আরও জানান, বিএমইউ প্রশাসন থেকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মেয়াদ আরও দীর্ঘ এবং আধুনিকায়নের বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী আরও উল্লেখ করেন যে, বিএমইউতে ইভিনিং ও নাইট শিফটে অপারেশন থিয়েটার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রশিক্ষিত নার্সের প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া তিনি জানান, যে সকল বিভাগে প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ যন্ত্রপাতি যুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নার্সিং পেশা বিশ্বে একটি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এবং মহৎ পেশা। তিনি জানান, নার্সরা যাতে রোগীদের সেবায় সবটুকু দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিএমইউ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, সেখানে নার্সরাই হাসপাতাল পরিচালনা করেন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন।
রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন ঢাকার সভাপতি রোটারিয়ান খালিদ হাসান বলেন, তাদের ক্লাব বিএমইউতে প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া এবং ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, অ্যানেসথেসিয়া, ক্রিটিক্যাল কেয়ার এবং নার্সিং বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া এবং ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগটি বিএমইউর ৫৬টি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত এবং জনবল ও কর্মপরিধিতে অগ্রগামী।
অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল আরও বলেন, এই বিভাগটি একসময় শুধুমাত্র অস্ত্রোপচারের আগে রোগীকে অচেতন করার পদ্ধতি হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু এখন এটি প্রি-অপারেটিভ কেয়ার, পেইন মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, ইমারজেন্সি কেয়ার এবং রিসাসসিয়েশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিভাগটি বর্তমানে মেডিসিন, নার্সিং, ডেন্টাল এবং বেসিক সায়েন্স অনুষদের ৩৪টি বিভাগকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করে।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা AVL (Note: The word 'AVL' was a mistake in the other draft, I need to ensure it is clean).
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, একসময় সি-ব্লকে মাত্র আটটি অপারেশন থিয়েটার ছিল, যা এখন বিভিন্ন ব্লকে মোট ৪৮টি অপারেশন থিয়েটারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া এই বিভাগের অধীনে বর্তমানে ৫২টি শয্যার তিনটি আইসিইউ, এইচডিইউ এবং ৫০ থেকে ৬০ শয্যার চার থেকে পাঁচটি পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড এবং একটি পেইন ক্লিনিক পরিচালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত ১৫টি অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, আইসিইউতে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনসহ মনিটর এবং পেইন মেডিসিনের জন্য এমআরআই ও ইউএসজি মেশিন কেনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়া বিএমইউতে বৈকালিক অপারেশন থিয়েটার চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দ্রুত জনবল বাড়ানোর ব্যবস্থা করা জরুরি।
অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল জানান, বর্তমানে অ্যানেসথেসিয়া বিভাগে সাতটি ডিভিশন রয়েছে, যার মধ্যে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো অ্যানেসথেসিয়া, পেডিয়াট্রিক অ্যানেসথেসিয়া, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার অ্যানেসথেসিয়া, ট্রান্সপ্লান্ট অ্যানেসথেসিয়া, পেইন মেডিসিন এবং আইসিইউ। এই বিভাগের প্রশাসনিক, একাডেমিক, ক্লিনিক্যাল এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমের সমন্বয় সাধনে এবং দেশের রোগীদের প্রয়োজনে একটি নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
