প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনৈতিক ইতিহাস কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব হবে না।
শনিবার বিকেল ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় তিনি এই কথাগুলো বলেন। সভায় তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত একটি আলোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং এই ঐতিহাসিক সত্যটি কোনো আইন-আদালত বা অন্য কোনো উপায়ে মুছে ফেলা যাবে না।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছিলেন। তবে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি এবং দেশে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন, যা কোনোভাবেই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানসমূহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র, টেকসই গণতন্ত্র এবং নারীশিক্ষার উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এছাড়া তিনি বিকাশমান অর্থনীতির উন্নয়ন এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের দাবির কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক মুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি সংকটকালীন সময়ে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং দেশকে বিভিন্ন সংকট থেকে উদ্ধার করেছে।
তারেক রহমান গত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, যে কোনো অত্যাচার-নির্যাতন উপেক্ষা করে বিএনপি এই আন্দোলন চালিয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন যে, গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বৈরাচারের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন এবং দলটি রাজপথে বুক চিতিয়ে মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছে।
বিএনপি কোনো গোপন ভূমিকা গ্রহণ করেনি বরং রাজপথে সোচ্চার হয়ে মানুষের দাবি আদায়ে কাজ করেছে।
রুহুল কবির রিজভীরের সভাপতিত্বে এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম এবং ইসমাইল জবিহউল্লাহ বক্তব্য দেন।
এছাড়া জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ স্বামী রাজীব আহসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন ও মোস্তফা জামান এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান এবং এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
