ফরিদপুরের সালথা উপজেলা থেকে আড়াই মাস আগে নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইমরান খানের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। গত ১৪ জুন থেকে নিখোঁজ থাকা এই কিশোরের বাবা চুন্নু খান ও মা হাজেরা বেগম তাদের সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নিখোঁজ ইমরানের বাবা চুন্নু খান জানিয়েছেন, তার ছেলে জীবিত আছে নাকি মারা গেছে সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তিনি প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেছেন, তার ছেলে যদি বেঁচে না থাকে তবে অন্তত তার মরদেহ বা হাড়গোড় উদ্ধার করে যেন তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভাবের সংসারে আর্থিক সহায়তা করার জন্য ইমরান মাঝেমধ্যে তার বাবার ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বের হতো। ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৪ জুন প্রতিবেশী শামীম মোল্যার ধান ভাঙানোর কথা বলে ইমরান ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে আর ফিরে আসেনি।
নিখোঁজের তিন দিন পর ১৭ জুন বিকেলে পার্শ্ববর্তী মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামে শামীমের আত্মীয় এলিনা বেগমের বাড়ি থেকে পুলিশ ইমরানের ব্যবহৃত ভ্যানটি উদ্ধার করে। একই সময়ে একটি পাটক্ষেত থেকে ইমরানের ব্যবহৃত জুতা এবং একটি কোদাল উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ইমরানের বাবা চুন্নু খান বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সালথা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে এলিনা বেগম, শামীম মোল্যার বাবা টুকু মোল্যা, স্ত্রী সাথী বেগম এবং রাসেল মাতুব্বর অন্যতম। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন এবং দুজন কারাগারে রয়েছেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যা এখনো পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
ইমরানের মা হাজেরা বেগম জানান, ভ্যান উদ্ধার হলেও ছেলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তারা ফরিদপুর হাসপাতাল ও মুকসুদপুর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেছেন। কিন্তু কোথাও তার ছেলের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যাকে গ্রেফতারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে এবং নিখোঁজ কিশোরের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে। আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় পরিবারটি এখন চরম হতাশায় দিন পার করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
