ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় রড চুরির অপবাদ দিয়ে তাওহিদ শেখ নামের ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় একটি মুড়ি কারখানার মালিক ইশারত মোল্লা ও তার ছেলে মুন্না মোল্লা এই নির্যাতন চালিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার নওয়াপাড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘মায়ের দোয়া’ মুড়ি কারখানার দ্বিতীয়তলার ছাদে এই ঘটনা ঘটে। তাওহিদ শেখ স্থানীয় বাজারের একটি ফার্নিচারের দোকানের কর্মচারী এবং উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া কুরানিয়ার চর এলাকার রুবেল শেখের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশু ও তার স্বজনদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে ফার্নিচারের দোকানের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে মুন্না মোল্লা তাকে ডেকে কারখানার ছাদে নিয়ে যান।
সেখানে কারখানার মালিক ইশারত মোল্লা উপস্থিত হয়ে শিশুটিকে রড চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। চুরির বিষয়টি অস্বীকার করলে শিশুটির হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় এবং চিৎকার যাতে কেউ শুনতে না পায় সেজন্য কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর লোহার পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই নির্যাতন চালানো হয় বলে শিশুটি জানিয়েছে। শিশুটির দাদি রহিমা বেগম জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে খুঁজতে গিয়ে কারখানার নিচে গোঙানির শব্দ শুনতে পান স্বজনরা। প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন শিশুটি ছাদ থেকে পড়ে আহত হয়েছে, তবে পরে জ্ঞান ফিরলে সে নির্যাতনের বর্ণনা দেয়।
পরদিন সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বজনরা জানান, তার পুরো নিতম্ব কালচে হয়ে গেছে এবং যন্ত্রণায় সে বিছানায় বসতে পারছে না। নির্যাতনের শিকার শিশুর বাবা রুবেল শেখ অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার মালিক ইশারত মোল্লা তাকেও হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
ইশারত মোল্লা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কারখানার মালিক ইশারত মোল্লা দাবি করেন, শিশুটি এলাকায় বিভিন্ন মালামাল চুরি করে থাকে এবং তার ঘরের কাজের রড চুরির সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। তিনি স্বীকার করেন যে তার ছেলে ও দুই ভাতিজা মিলে শিশুটিকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবিক কারণে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়নি, যা তার ভুল ছিল। এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায় জানান, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যরা সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
