ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের আটজন শিক্ষককে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করেছে একটি চক্র। সর্বহারা পার্টির সদস্য পরিচয়ে এই চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা না দিলে শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বোয়ালমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জিডিটি করেছেন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক পরেশ কুমার পাল। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে কলেজের আটজন শিক্ষককে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। হুমকি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন দেবাশীষ রায়, নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস ও প্রদীপ কুমার সাহা।
তাঁরা সবাই ওই কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবিন লস্কর ও স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং বর্তমান সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জীব কুমার রায়ও একই ধরনের অভিযোগ জানিয়েছেন। জিডিতে পরেশ কুমার পাল উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে কলেজে অবস্থানকালে তাঁর মুঠোফোনে একটি নম্বর থেকে ফোন আসে।
ফোনদাতা নিজেকে গৌতম বিশ্বাস পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি সর্বহারা পার্টির বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য। ফোনদাতা দাবি করেন, তাঁদের কয়েকজন সহকর্মী বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং তাঁদের মুক্ত করার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে প্রত্যেক শিক্ষককে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা করে পাঠাতে বলা হয়।
টাকা না পাঠালে শিক্ষকদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রায় জানান, তাঁকে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাঁকে ভয়ংকর পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, টাকা না দিলে রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো নির্মম পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে একজন সাবেক শিক্ষক ভয়ে একটি বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর থেকে শিক্ষকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন সহযোগী অধ্যাপক নিলয় কুমার সাহা। তিনি বলেন, মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে আটজন শিক্ষককে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই ঘটনার বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, কোনো প্রতারক চক্র চরমপন্থী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এই চাঁদা দাবি করছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
বর্তমানে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং হুমকিদাতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা এই বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পুরো এলাকা জুড়ে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষকরা আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন।
