ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আবাসিক হোস্টেলের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে মোরশেদ আলম নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোরশেদ আলম ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ কোনো লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, মোরশেদ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী হিসেবে পরিচিত। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নারী হোস্টেলের আঙিনায় কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছ থেকে হোস্টেল সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়ে মোরশেদ ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এই পোস্টের বিষয়টি জানাজানি হলে আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং এক পর্যায়ে ছাত্র হোস্টেলের শিক্ষার্থীরাও তাঁদের সঙ্গে প্রতিবাদে যোগ দেন।
শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে মোরশেদকে আটক করে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষক সমিতির সভাপতি জি এম তাজউদ্দিন জানান, রাতে পুলিশ মোরশেদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি আরও জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাতেই ফেসবুকে দেওয়া অশালীন পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নতুন একটি পোস্ট দেন।
প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কাউন্সিলের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অভিযোগটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলেজের নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে অন্য কোনো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি।
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রুবেল মোঘল জানিয়েছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত মোরশেদকে এই ইনস্টিটিউট থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার সভাপতি খায়ের উদ্দিন দাবি করেছেন যে, মোরশেদ আলম তাদের সংগঠনের সক্রিয় কর্মী নন এবং তাঁর কোনো দলীয় পদ নেই।
তাই তাঁর অপরাধের বিষয়ে সংগঠনগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, মোরশেদের ব্যক্তিগত পোস্টকে কেন্দ্র করে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ঘটনার বিষয়ে ফেনী মডেল থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজিদ কামাল জানিয়েছেন যে তিনি ছুটিতে আছেন। এছাড়া থানার ডিউটি অফিসারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি রেজিস্টার খাতা দেখে জানান, মোরশেদ নামে কোনো শিক্ষার্থীকে থানায় আটকের তথ্য নেই। ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
