ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ও দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে উপজেলার পুরাতন মুহুরীগঞ্জ এলাকায় দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে বাসচালক, কাভার্ড ভ্যানের চালক এবং কাভার্ড ভ্যানের সহকারী রয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি কাভার্ড ভ্যান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই বিকল কাভার্ড ভ্যানটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি বড় আকৃতির আর্টিকুলেটেড যান সেখানে কাজ করছিল। এমন সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এই সংঘর্ষের ফলে বাস ও কাভার্ড ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত চারজনকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম নবী আহতদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর একজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আবু নোমান জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস, কাভার্ড ভ্যান এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত আর্টিকুলেটেড যানটি জব্দ করেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বিকল যানবাহনের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য কাজ করছে পুলিশ।
এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের সময় চালকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আহত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহাসড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
