জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান শনিবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার মহিপাল এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে এবং দেশে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে ফ্যাসিবাদ শুরু হলে তা সহ্য করা হবে না এবং যেখানে বাধা পাওয়া যাবে সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
শফিকুর রহমান দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে এবং সংসদে বিদ্যুৎ থাকে, কিন্তু সাধারণ মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে না। তিনি আরও বলেন, তবে গত ছয় মাসে শাপলা চত্বরে এবং পিলখানার মতো বড় বড় গণহত্যার বিচার শুরু হয়নি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শুরু হওয়া অনেক বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বলেন, বর্তমান সরকার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন যে, র্যাবকে বিলুপ্ত না করে নতুন নামে আনা হচ্ছে এবং বিএনপি সিন্ডিকেট করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন যে, ১১-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন করা হলে বিএনপিকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং লংমার্চের পর ঢাকায় জনসভা করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব. ) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বর্তমান সরকারের আত্মবিশ্বাস নেই এবং তারা গণভোটের রায় মানছেন না। তিনি বলেন, হাসিনা চলে গেলেও বর্তমান সরকার তাদের সাবেক সরকারের আদলে দেশ চালাচ্ছে। তিনি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে পথে নেমে আসার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভালো সেনে নেই এবং দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাব রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, তবে বিএনপি চাঁদাবাজি শুরু করেছে এবং অদক্ষ লোকজনকে মন্ত্রী বানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে তাদের নেতাদের জামিন করাচ্ছে এবং আগামীর বাংলাদেশ তারেক রহমানের নয়, বরং শহীদ ওসমান হাদির বাংলাদেশ হবে।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, তারা সংস্কার ও জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে বিএনপিকে চূড়ান্তভাবে উপস্থিতিতে লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হবেন। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের নামে হাইকোর্ট দেখিয়ে লাভ নেই এবং বিগত সময়ে সংবিধান সংশোধন ১৭ বার বাতিল হয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি বর্তমান রাষ্ট্রপতি বিএনপির মহাসচিব থাকাকালে সাবেক সরকারের সময় তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন এবং তারা এখন সেই একই আন্দোলন করছি।
আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেন, এই লংমার্চের মাধ্যমে ১১-দলীয় ঐক্যের আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং পরবর্তীতে এটি ঢাকা ঘেরাও করার পরিকল্পনা থাকলেও এখনই তা নয়। তিনি বলেন, প্রতিটি আন্দোলন হবে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদের নামে।
এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, সরকার তেলের ব্যবস্থা করতে না পারলে ১১-দলীয় জোটের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে যান।
এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের পকেট কাটা শুরু হয়েছে এবং তারা গণভোটের রায় নিয়ে গড়িমসি করছেন।
শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে এই লংমার্চ শুরু হয়, যা চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। লং তবে এটি কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, চৌদ্দগ্রাম এবং ফেনীতে পথসভা করার কর্মসূচি ছিল।
১১-দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারவையான, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
ফেনীতে পথসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এনসিপি-র বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মসূচির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম অভিমুখী লেনের গাড়িগুলো ঢাকা লেন হয়ে চলাচল করছিল, যা মহাসড়কে দীর্ঘ গাড়ির জট তৈরি করেছে।
