ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের উত্তর যশপুর গ্রামে পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের মুঠোফোন তল্লাশি করার সময় তিন যুবককে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে অটোরিকশায় করে গ্রামে এসে এই যুবকেরা নিজেদের পুলিশ হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তাঁরা স্থানীয় লোকজনের মুঠোফোন তল্লাশি শুরু করেন।
তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। আজ রোববার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিন যুবক হলেন ইমাম হোসেন, নাজমুল হক ও রাজীব হোসেন। তাঁদের মধ্যে ইমাম হোসেন ছাগলনাইয়া পৌরসভার বাঁশপাড়া গ্রামের রহিম উল্লাহর ছেলে, নাজমুল হক একই গ্রামের কবির আহাম্মদের ছেলে এবং রাজীব হোসেন দক্ষিণ যশপুর গ্রামের ফিরোজ আহমেদের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ কামাল জানান, ওই যুবকেরা গ্রামের মানুষের মুঠোফোন তল্লাশি করার সময় এক পর্যায়ে একজনের মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরা মুঠোফোনে ক্ষতিকর অ্যাপস থাকার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা ধাওয়া করে ওই তিনজনকে আটক করেন।
এরপর স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, নাজমুল হকের নেতৃত্বে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছিল। তাঁরা পুলিশ পরিচয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা দাবি করতেন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার নাজমুল হকের বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়া থানায় ছিনতাই, দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আটটি মামলা রয়েছে।
এছাড়া ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে। ঘটনার সময় তাঁরা যে অটোরিকশাটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটির চালক ছিলেন রাজীব হোসেন। তাঁকেও এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা তাঁদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আজ বিকেলে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাতে হঠাৎ অটোরিকশায় করে অপরিচিত ব্যক্তিদের এমন আচরণে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত মুঠোফোন তল্লাশি করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার ঘটনাগুলো রোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কোনো ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিলে প্রয়োজনে পরিচয়পত্র দেখার বা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
