ফেনীর ফাজিলপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান খাদে পড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ চার ঘণ্টা আটকে থাকা চালক মো. শামীমকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া চালক মো. শামীম পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার ইদ্রিস আকনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রহিম ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২১ টন ওজনের স্ক্র্যাপ ও লোহার মালামাল নিয়ে কাভার্ডভ্যানটি ঢাকার কাঁচপুরের দিকে যাচ্ছিল।
ফাজিলপুর এলাকার খাইয়ারা সংলগ্ন জেনিথ পাম্পের বিপরীত দিকে পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের চাপে পড়ে কাভার্ডভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই গাড়ির ভেতরে থাকা চালকের সহকারী দ্রুত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও চালক শামীম ভেতরে আটকা পড়েন। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতরে তিনি আটকা পড়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন।
পরবর্তীতে হাইওয়ে পুলিশের একটি টহল দল নিয়মিত টহলের সময় উল্টে থাকা গাড়িটি দেখতে পায় এবং চালকের আর্তনাদ শুনতে পায়। ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক এম. এ. ইমরান হোসেন জানান, টহলের সময় গাড়িটি উল্টে থাকতে দেখে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝতে পেরে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পেয়ে ফেনী সদর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ হারুন পাশার নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা প্রায় চার ঘণ্টা টানা প্রচেষ্টার পর দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে চালক শামীমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ হারুন পাশা জানান, কাভার্ডভ্যানটিতে ২১ টন ভারী লোহার মালামাল থাকায় এবং গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টার পর চালককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুতগামী বাসের চাপে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। চালক শামীম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
