প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন এবং চারটি তথ্যবহুল বুকলেট বিতরণ কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ছাত্রদলের এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কেবল সংগঠনের তথ্যের আধার নয়, বরং এটি শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমের একটি অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্ব রাজনীতি, দেশীয় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া।
প্রযুক্তিগত শিক্ষার অভাব শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগতভাবে নিরক্ষর করে তুলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, সিনিয়র সহ-সভাপতি আফসান ইয়াহিয়া, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ধরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন ও মামলা চালানো হয়েছে।
অনেক নেতার বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি মামলা ছিল, যা তাদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছিল। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ছাত্রদল শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে সাক্ষরতা অভিযান শুরু করেছিলেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
রিজভী জানান, ভবিষ্যতে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পরিধি আরও বাড়ানো হবে এবং সারা দেশের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এর নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই অধিকার আদায়ের সংগ্রাম গড়ে উঠেছে। তিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে ক্যাম্পাস থেকেই প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি একটি মূল্যবান বিষয় এবং এটি মানুষের বাক্স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ছাত্রদলের অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি সংগ্রামে ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি দাবি করেন, অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছাত্রদের সমর্থন নিয়ে ছাত্রদল বিজয়ী হয়েছিল।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এই দর্শনকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু দেশের ভৌগোলিক ও আন্তর্জাতিক পরিচয়ের প্রয়োজনে এর কোনো বিকল্প নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ছাত্রদলের অতীত গৌরব এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের তথ্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, এই বিপ্লবে বিএনপি ও শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে ১৪২ জন এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫০ জনের আত্মাহুতি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্ব ও জনগণের সম্মিলিত শক্তির কারণেই জুলাই বিপ্লব সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে।
যারা এই আন্দোলনে দলের অবদানকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন, তারা শহীদদের রক্তকে অপমান করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি ছাত্রদলের তৈরি চারটি বুকলেটের প্রশংসা করেন, যেখানে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ছাত্রদল তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাবে।
