পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম রাজশাহীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বারিন্দ রাজশাহী টেক্সটাইল মিল পরিদর্শন করেছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে তিনি কারখানাটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় তিনি কারখানার ব্যাগ ও লাগেজ উৎপাদন ইউনিটগুলো ঘুরে দেখেন। কারখানাটিতে পৌঁছালে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ফুটওয়্যার ও লাগেজ বিভাগের চিফ অপারেটিং অফিসার রাহাত হোসেন রনি এবং কারখানার হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন শরীফ উদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
কারখানা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারি মালিকানাধীন একটি দীর্ঘদিনের বন্ধ কারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি কাঠামোর আওতায় পরিবেশবান্ধব ও রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে কারখানাটি চালু করে সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার দেশের বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তিনি আরও বলেন, কারখানাগুলোতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তারা এই বন্ধ কারখানাটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কারখানাটিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে এই কারখানায় ব্যাগ ও লাগেজ উৎপাদনের কাজে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ কর্মরত আছেন।
পর্যায়ক্রমে কারখানায় আরও নতুন উৎপাদন লাইন যুক্ত করা হবে। এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রায় ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। কারখানায় উৎপাদিত ব্যাগ ও লাগেজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। কারখানাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রপ্তানিমুখী গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক বা পরিবেশবান্ধব শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কারখানায় বিভিন্ন পরিবেশগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে জলাধার সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মতো কাজগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কারখানাটি চালুর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পিপিপি কাঠামোর আওতায় এই ধরনের শিল্প উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক শিল্পায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত মান বজায় রাখার বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষ থেকে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রতিমন্ত্রী কারখানাটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনের সময় তিনি কারখানার শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেন এবং তাদের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে অবগত হন।
সরকারের শিল্পায়ন নীতি এবং পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা তিনি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেন। সব মিলিয়ে, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার এই প্রক্রিয়াটি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে এবং রপ্তানি আয়ে অবদান রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের একটি বড় ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
