আজ ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস। ২০০৮ সালের এই দিনে দীর্ঘ কারাবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ভোররাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর থেকে তিনি প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি ছিলেন। কারাবন্দি থাকাকালীন সময়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে বিএনপি নেতারা দাবি করেন। দীর্ঘ সময় বিনা বিচারে কারাবন্দি থাকার পর বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সবশেষে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি কারামুক্ত হন। কারামুক্ত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে গমন করেন। দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থানের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে।
জনগণের রায়ের ভিত্তিতে সরকার গঠনের পর বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা এই দিনটিকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। কারামুক্তির পর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকলেও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন।
তার অনুপস্থিতিতে দলের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হতো। প্রবাসে থাকাকালীন সময়েও তিনি দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতেন। তার দেশে ফেরার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বর্তমানে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
কারামুক্তি দিবসের এই দিনটি বিএনপির রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলের নেতাকর্মীদের কাছে এটি একটি বিশেষ স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৭ সালের সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কারামুক্তি পরবর্তী রাজনৈতিক পথচলা এবং তার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়।
আজ তার কারামুক্তির ১৯ বছর পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন অতিবাহিত করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
নেতাকর্মীরা এই দিনটিকে স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন। কারামুক্তি দিবসের এই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
